রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১১

ছাত্রলীগের জন্য লুটপাটের প্রকল্প


আমরা শুধু ক্ষমতাগ্রহণের পর ছাত্রলীগের এক বছরের কর্মকাণ্ড যদি দেখে নিই, তাহলে বোঝা যাবে ‘সোনার ছেলে’রা কেমন শিক্ষা দেবে। নির্বাচনে বিজয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় কলেজগুলোতে প্রথমে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের ওপর চলে অত্যাচার-নির্যাতন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ছাত্রলীগ। ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরের ছেলেরা অনেকে গা ঢাকা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং তা গড়ায় খুনোখুনিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলছে। গত সোমবার গভীর রাতেও এক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের অন্যতম কারণ টেন্ডারবাজি বলে সংবাদপত্রে আগেই খবর এসেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডারবাজি নিয়ে পুলিশের সামনে দুই গ্রুপে গুলি বিনিময় করেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৩১ মার্চ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মারা গেছে আসাদ নামে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের পছন্দের ভিসি নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্খার সৃষ্টি করা হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য এক শিবির নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার কিছু দিন পর আবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে ছাত্রলীগের আরেক নেতা নিহত হয়েছে। ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ, এরপর নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি ছাড়াও ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন, শিক্ষক পেটানোসহ হেন অপকর্ম নেই যার সাথে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। রাজশাহীতে ছাত্রলীগের হাতে নিহত হয়েছে মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রমৈত্রীর এক নেতা। নিহত ছাত্রমৈত্রীর এই নেতার মা ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেত্রী। এ ছাড়া ছাত্রলীগের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিএল কলেজ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ, খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় বড় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন